কুমিল্লায় পৃথক দুটি ঘটনায় একজন খুন ও একজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ মার্চ) কুমিল্লা সদর উপজেলা ও মুরাদনগর উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লা সদর উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নের রায়চর গ্রামে গ্যাসের চুলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছোটভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড়ভাই নিহত হয়েছেন। নিহত বিল্লাল হোসেন ওই গ্রামের আবদুল মালেক ভূইয়ার ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছোটভাই আনিসুর রহমান ভূইয়া ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্যাসের চুলার রাইজার নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছোটভাই আনিসুর রহমান ভূইয়া অতর্কিতভাবে বড়ভাই বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, গ্যাসের চুলার রাইজার নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে ছোটভাই আনিসুর রহমান ভূইয়া বড়ভাই বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে একই দিনে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন রামচন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক কলেজ শিক্ষকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, সাইফুল ইসলাম গত তিন বছর ধরে স্থানীয় অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজে ইংরেজি বিষয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহে পচন ধরেছে। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৫ থেকে ৭ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। দরজা ভেঙে পুলিশ ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহটি উদ্ধার করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মার্চ সর্বশেষ কলেজে ক্লাস নিয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম। এরপর থেকে তার সঙ্গে কারো যোগাযোগ হয়নি। ওই কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী জানান, সাইফুল ইসলাম মাঝেমধ্যে কাউকে কিছু না বলে কলেজে অনুপস্থিত থাকতেন।
গত রবিবার কয়েকজন শিক্ষার্থী তার বাসায় গিয়ে অনেক ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ফিরে যায়। পরে ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা দরজার তালা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করে।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
