কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় এক পরিবারে বাবা-ছেলে-মামার ত্রিমুখী ঝগড়া থামাতে গিয়ে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একটি সামান্য ঝগড়া মুহূর্তেই রূপ নেয় চরম ট্র্যাজেডিতে যেখানে নিজের পরিবারের শান্তি ফেরাতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হলো এক মমতাময়ী নারীকে।
(৪ মে) সোমবার রাতে হত্যা মামলার পর অভিযুক্ত পলাতক স্বামী নাসিরকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।
রোববার সকালে ৮টার দিকে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মিরপুর এলাকার সরকার বাড়িতে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত পারভীন বেগম (৫০) ওই এলাকার মো. নাসিরের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাসিরের ভাগিনা ইয়াসিন (১৬), যিনি পেশায় রংমিস্ত্রি, বেশ কিছুদিন ধরে কাজে যাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে রোববার সকালে মামা-ভাগিনা মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে বাবা নাসির ঝগড়াতে জড়িয়ে যায়। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।তাদের ঝগড়া থামাতে এগিয়ে আসেন পারভীন বেগম। তিনি উভয়কে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং ভাইকে রক্ষা করতে মাঝখানে দাঁড়ান। কিন্তু সেই মানবিক উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী নাসির তার স্ত্রীকে তলপেটে জোরে লাথি মারেন। আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে পারভীন বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অচেতন হয়ে যান।স্বামী পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশীরা জানায় যে নারী পরিবারে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন, তিনিই আজ পরিবারের সবচেয়ে বড় শূন্যতা হয়ে দাঁড়ালেন।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মো. নাসিরকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের ছোট ভাই মো. বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
