ঢাকার সাভারে ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম শারমিন জাহান (২৩)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সোনার বাংলা কলেজের সাবেক কৃতি শিক্ষার্থী ছিলেন।
রবিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি বাসা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত শারমিন জাহান চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। তিনি বিবাহিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। তাকে এ ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, শারমিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এনামুল হক জানান, শারমিন জাহানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মাথার ডান পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারী কোনো বস্তু দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে শারমিন জাহানের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সোনার বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার। কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভের পাঠানো এক শোকবার্তায় বলা হয়, সোনার বাংলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা-২০২১ ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের ছাত্রী শারমিন জাহান খাদিজার এমন অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুতে কলেজ পরিবার গভীরভাবে শোকাহত, স্তব্ধ ও বিক্ষুব্ধ।
শোকবার্তায় কলেজের সকল শিক্ষক-কর্মচারী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের কাছে দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
তারা আশা প্রকাশ করেন, অতি দ্রুত ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
