কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভয়ের পার গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চাঁদা দাবি, অশালীন আচরণ, হামলা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে শুকতারা নামে এক হিজড়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি সুমন চন্দ্র সরকারের মেয়ে প্রিয়াংকা রাণী সরকারের বিয়েকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
কনের পিতা সুমন চন্দ্র সরকার অভিযোগ করে বলেন, গত ০২ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে হিজড়া শুকতারা তার স্বামী জোবায়েরকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে বিয়ের তারিখ সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তারা ৮ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা গালমন্দ করেন এবং বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
পরিবারের দাবি, গত (৯ মার্চ ২০২৬) তারিখে বিয়ের দিন রাত আনুমানিক ১টার দিকে শুকতারা ও তার স্বামী জোবায়েরসহ ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পুনরায় তাদের বাড়িতে এসে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। অনুষ্ঠানে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে শান্তভাবে চলে যেতে অনুরোধ করা হলেও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
সুমন চন্দ্র সরকার আরও জানান, শুকতারার দল বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও বরপক্ষের লোকজনদের সামনে অশালীন আচরণ, গালাগালি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে তারা কনে প্রিয়াংকা রাণী সরকারকে টানা-হেঁচড়া শুরু করলে পুরো অনুষ্ঠানে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, এ বিশৃঙ্খলার মধ্যেই কনের গলায় থাকা প্রায় ২ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের নেকলেস ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। এছাড়াও তার বাম হাতে থাকা দেড় ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের বালা ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজনকে মারধর, কিল-ঘুষি ও ধাক্কাধাক্কি করে আহত করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার সময় বুড়িচং থানাধীন দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. রফিকসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
তবে পরবর্তীতে অভিযুক্ত পক্ষ উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে বলেও অভিযোগ করেন কনের পিতা সুমন চন্দ্র সরকার।
তিনি বলেন, তারা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে চান না; বরং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
