জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরাকে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) এবং কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) সংসদীয় আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) এবং কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের আসনে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
বুধবার (১০ জুন) বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কুমিল্লা জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩০ জন আবেদন করলেও চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি জেলার কোনো নারী নেত্রী। ফলে অন্য জেলা থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী এমপিকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার সভাপতি সুফিয়া বেগম বলেন, “কুমিল্লার ১১টি আসনের জন্য ৩০ জন নারী নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। ইন্টারভিউ বোর্ডে ২৯ জন অংশ নিলেও আমাদের কেউই মনোনয়ন পাইনি।”
এর আগে গত ২০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষিত তালিকায় তৃতীয়বারের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পান রাশেদা বেগম হীরা।
চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আলগী গ্রামের বাসিন্দা রাশেদা বেগম হীরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ) এবং ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৯ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের ভিপি ও জিএস পদে নির্বাচনেও অংশ নেন।
রাশেদা বেগম হীরা ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ২০০১ সালে অষ্টম এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
কুমিল্লার দুই গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনে তার দায়িত্বপ্রাপ্তির বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
