ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে মাগুরায় প্রদর্শন করা হয়েছে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল জার্মান পতাকা। বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টায় মাগুরা শহরতলীর নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে বাদ্যযন্ত্রের তালে আনন্দ মিছিল ও উৎসবমুখর পরিবেশে পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে কুষ্টিয়া, বরিশাল, ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জার্মান ফুটবল দলের সমর্থকরা ছুটে আসেন। স্থানীয় কয়েক হাজার নারী-পুরুষও এ সময় মাঠে ভিড় জমান।
জানা গেছে, মাগুরা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোড়ামারা গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন নিজ উদ্যোগে এই বিশাল পতাকাটি তৈরি করেছেন। এর আগে ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মান পতাকা তৈরি করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে তিনি সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা নির্মাণ করেছেন।
আমজাদ হোসেন জানান, পতাকাটি তৈরির জন্য তিনি নিজের ৩০ শতক জমি বিক্রি করেছেন। জার্মানির প্রতি তার গভীর ভালোবাসা থেকেই এ উদ্যোগ।
জার্মানির প্রতি এমন অনুরাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “২০১২ সালে আমি একটি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলাম। পরে জার্মানিতে তৈরি ওষুধ সেবন করে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠি। সেই কৃতজ্ঞতা ও ভালো লাগা থেকেই আমি জার্মান ফুটবল দলের সমর্থক হয়ে যাই।”
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় জার্মান পতাকা। মৃত্যুর পর এই পতাকাটি জার্মান সরকারের উদ্যোগে দেশটির কোনো জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত হবে— এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ফুটবল ও জার্মানির প্রতি আমজাদ হোসেনের অসাধারণ ভালোবাসার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত তাকে ‘জার্মান ফ্যান ক্লাব’-এর অফিসিয়াল সদস্যপদ প্রদান করেছেন।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মাগুরার এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
