কুমিল্লা-মীরপুর আঞ্চলিক সড়কের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বড়ধুশিয়া ব্রিজ সংলগ্ন সরকারি খাল দখল করে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।খাল ভরাট ও দখলের ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
(৯ জুন) মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলার বড়ধুশিয়া ব্রিজের পাশের সরকারি খালের জায়গা দখল করে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিনিয়ত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খাল ভরাট ও দখলের ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
রিসোর্টের মালিক বাশার মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি অনুমতি নিয়েই কাজ শুরু করেছি। এ বিষয়ে কোনো কথা থাকলে এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি খালে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি নজরে আসার পর কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা এবং সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড়ধুশিয়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রিসোর্ট মালিক ও জমির মালিক স্থানীয় এক নেতাকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তার আশ্বাসে নির্মাণকাজ আবারও চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযুক্ত নেতার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এদিকে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন,সরকারি জায়গায় ব্যক্তিগত কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সুযোগ নেই। বড়ধুশিয়া এলাকায় সরকারি খালের ওপর নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি খাল দখলমুক্ত করে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
