কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (৭) ফুসলিয়ে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলার প্রধান আসামি আল আমিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । ঘটনার পর থেকেই সে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিল।শনিবার প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান এবং স্থানীয় সচেতন যুবসমাজের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয় ।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে গোপালনগর গ্রামের স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী বিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি দোকানে যায় । সে সময় দোকানটি বন্ধ থাকায় বখাটে আল আমিন শিশুটিকে একা পেয়ে বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে দোকানের পশ্চিম পাশের একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায় । সেখানে সে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায় । ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টাও করা হয়। তবে শিশুটির চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে লম্পট আল আমিন জঙ্গল দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় ।
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে না দিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালায়। তারা আইনের তোয়াক্কা না করে গ্রাম্য সালিশের নাটক সাজায় । সেখানে অপরাধীকে চিরতরে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে মাত্র ‘৫ লাখ টাকার বিনিময়ে’ আপস ও রফাদফার চেষ্টা করা হয় ।
টাকার জোরে এই জঘন্য অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে ফুঁসে ওঠে এলাকার সচেতন যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ গ্রামের আনাচে-কানাচে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সালিশকারীদের রক্তচক্ষু ও হুমকি উপেক্ষা করে যুবসমাজ নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। যুবসমাজের এই অনমনীয় অবস্থানের পর, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ।
পাষণ্ড আল আমিনের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে গোপালনগর গ্রামসহ পুরো ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় স্বস্তি নেমে আসে।
স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধিরা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আজ প্রমাণিত হলো,জনগণের ঐক্য ও যুবসমাজের তীব্র প্রতিবাদের সামনে কোনো অপরাধী বা অপরাধীর সহায়তাকারী পার পায় না। যারা টাকার জোরে প্রহসনের সালিশ সাজিয়ে অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল, তাদের মুখে চরম চুনকালি পড়েছে।”
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি ফারুক হোসেন জানান, শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। প্রধান আসামি আল আমিনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সাথে যারা বেআইনিভাবে সালিশের নাটক সাজিয়ে অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা বা হুমকি প্রদান করেছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
