সরকারের কৃষিজমি রক্ষা নীতিমালা এবং কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিনের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে উপেক্ষা করে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে প্রকাশ্যে কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের অদূরেই অবৈধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে কৃষিজমি ভরাটের কাজ চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের প্রায় ১০০ থেকে ১২০ গজ পশ্চিমে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে মাটি এনে কৃষিজমি ভরাট করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের ছাতিয়ানি গ্রামের ভূইয়া বাড়ির তসলিম ভূইয়া নামের এক ব্যক্তি ওই ভরাট কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ মাটি এনে জমি ভরাট করা হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে তসলিম ভূইয়া বলেন, বর্তমানে উপজেলার পাশে আমার একটি সাইট চলছে। সাহেবাবাদ উত্তরপাড়া এলাকার দুলাল হাজীর ফিশারি থেকে মাটি আনা হচ্ছে। জমির মালিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সঙ্গে কথা বলেই মাটি কাটার ব্যবস্থা করেছেন। আমাকে বলা হয়েছে কাজ করতে কোনো সমস্যা নেই। সবাইকে ম্যানেজ করা হয়েছে।তবে এ বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা সদর এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, উপজেলা পরিষদ ও এসিল্যান্ড অফিসের এত কাছে প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে কৃষিজমি ভরাট করা হলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে রহস্যজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৪ শতক জমি ভরাটের জন্য আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের কৃষিজমি রক্ষার নীতিমালা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে অবৈধভাবে কৃষিজমি ভরাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা ও অবৈধ ড্রেজার ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও প্রত্যাশা করছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন,বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের পাশেই ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন ও কৃষিজমি ভরাটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। আমি এখনই এসিল্যান্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিচ্ছি।
