Spread the love

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একমাত্র ছেলে রিয়াজুল হাসানের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর মা শামীমা আক্তার। রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

নিহত রিয়াজুল হাসান ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের মল্লিকাদিঘী গ্রামের মামুনুর রশিদের ছেলে। তিনি পেশায় কারারক্ষী ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শামীমা আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত সুন্দর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকেই ওই মামলার আসামিরা তাঁর ছেলের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

তিনি দাবি করেন, মল্লিকাদিঘী গ্রামের মৃত জলিল মিয়ার ছেলে পারভেজ, তার ভাই দুলাল মিয়া ও ফিরোজ মিয়া, কামাল এবং তার ছেলে ফয়সালসহ কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য শশীদল গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে আরাফাত ইসলাম ইমন ওরফে শাকিলকে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ছুটিতে বাড়িতে আসার পর গত ১ জানুয়ারি কৌশলে রিয়াজুল হাসানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সাহাপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কসবা–চৌমুহনী সড়কের পাশে একটি গ্রীন নার্সারির কাছে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয়। পরে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শামীমা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, কসবা থানা পুলিশ হত্যা মামলা গ্রহণ না করে সড়ক দুর্ঘটনার মামলা নেয় এবং চাকরির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

পরে গত ২০ জানুয়ারি তিনি বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে হত্যা করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *