দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে অভিনেতাদের আগমন নতুন নয়। এম জি রামচন্দ্রন (এমজিআর) ও জয়ললিতার মতো তারকারা একসময় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে দাপট দেখিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন ইতিহাস গড়ার পথে অভিনেতা সি. জোসেফ বিজয়। তার দল তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগম (টিভিকে) তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
২৩৪ আসনের বিধানসভায় টিভিকে পেয়েছে ১০৭টি আসন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ডিএমকে পেয়েছে ৭৪টি এবং এডিএমকে ৫২টি আসন। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসন না পাওয়ায় রাজ্যটিতে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় নিশ্চিতভাবেই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বিজয়।
তামিল রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকে ও এডিএমকের আধিপত্য ছিল। অন্য কোনো দলের ক্ষমতায় আসা ছিল বিরল ঘটনা। সেই বাস্তবতায় বিজয়ের নেতৃত্বে টিভিকের এই সাফল্য রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৪ সালে দল গঠনের পর থেকেই বিজয় স্পষ্ট অবস্থান নেন যে, তার দল এককভাবে নির্বাচন করবে। তিনি এই নির্বাচনকে ‘গণতান্ত্রিক লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং রাজনৈতিক আদর্শে আপস না করার ঘোষণা দেন। এই বার্তাই ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে এমজিআরের পর প্রায় ৪৯ বছর পর আবারও একজন অভিনেতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই উত্থান হঠাৎ নয়; বরং পরিকল্পিত কৌশলের ফল। তিনি শুরু থেকেই টিভিকে-কে ডিএমকে ও এডিএমকের বাইরে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন। কোনো জোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাকে দুর্নীতিবিরোধী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে তরুণ ও শহুরে ভোটারদের মধ্যে এই অবস্থান ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে, জোট সরকার গঠনে পট্টালি মাক্কাল কাছি (পিএমকে) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু। দলটির নেতা ড. অনবুমানি রামদোস ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। আদর্শগত বড় কোনো দ্বন্দ্ব না থাকায় পিএমকের জন্য এনডিএ ছেড়ে টিভিকেকে সমর্থন দেওয়া কঠিন হবে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিজয়ের নেতৃত্বে টিভিকের উত্থান তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।
