জ্বালানি তেল পাচার রোধে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে যেন কোনোভাবেই জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশে পাচার হতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে টহল, তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াডও।
বিশেষ করে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম আরও কঠোর করা হয়েছে। এই বন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী ট্রাক ও লরিগুলোকে ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো যানবাহন বা পণ্য দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এদিকে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিবিরবাজার স্থলবন্দর এলাকা ও কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোথাও পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। তেল নিতে এসে অনেক গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকে আবার তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।
নগরীর চকবাজার এলাকার নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বলেন, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অনেক চালক তা মানছেন না। কেউ কেউ একবার তেল নেওয়ার পর আবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এতে করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে চালকদের অভিযোগ, কিছু পাম্পে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে।
ভুক্তভোগী চালক আবদুল আউয়াল বলেন, পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকার পরও পাম্প মালিক ও অসাধু চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট তৈরি করছে।
তবে পাম্প মালিকদের দাবি, হঠাৎ করে গ্রাহকদের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০ বিজিবি) উপ-অধিনায়ক মেজর মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ডগ স্কোয়াডও কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী সব ধরনের গাড়ির ফুয়েল ট্যাংকে তেলের পরিমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তেল পাচারসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি তৎপর রয়েছে।
