মাত্র ১০ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ডেগ সিলগালা করে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এসেছে। একই সঙ্গে নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ না দেওয়ায় এটি নিয়মিত বদলি নাকি বিশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ‘জনস্বার্থে’ সারওয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু। বিদায়ী ডিসি জানিয়েছেন, সোমবারই তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের আগস্টে সাদাপাথর পর্যটন এলাকায় পাথর লুটের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব নেন সারওয়ার আলম।
দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি রোধ এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দালালমুক্ত করার মতো কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসা পান। তবে এসব উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরে হকাররা আবারও ফুটপাত দখল করে এবং বিভিন্ন সমস্যা আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
এ ছাড়া সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণে ধীরগতি, ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া এবং সাদাপাথর লুটের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থতার অভিযোগেও সমালোচনায় পড়েন তিনি।
সবশেষ ১২ জুন শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে গিয়ে দানের ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপনের নির্দেশ দেন সারওয়ার আলম। ১৮ জুন প্রশাসনের উপস্থিতিতে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং পুরনো তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়। পরে সেখানে আনসার সদস্য মোতায়েন ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
এ ঘটনায় মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। রোববার দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সিলেটের ৬৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্যোগের প্রতিবাদ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মাজারের খাদিম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না অভিযোগ করেন, মাজারের কার্যক্রমে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এটি অলি-আউলিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ। তবে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম দাবি করেন, মাজারে দানের অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দানের অর্থ সরকার নেবে না; বরং মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নেই ব্যয় করা হবে। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এদিকে মাঠ প্রশাসনের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো জেলার ডিসিকে বদলি করলে সাধারণত একই প্রজ্ঞাপনে নতুন জেলা প্রশাসকের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে নতুন ডিসি নিয়োগ না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা চলছে।
