কুমিল্লার মুরাদনগরের এক অটোরিকশা চালককে নৃশংসভাবে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নিহতের ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা ও পেশায় অটোরিকশা চালক মাহাবুব আলম ওরফে মাসুম (৩২) গত ১৯ জুন বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। সেদিন রাত ১০টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো মোবাইল ফোনে কথা বলে তিনি কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় যাওয়ার কথা জানান। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
পরদিন ২০ জুন সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই দিন সকাল ১০টার দিকে বাঙ্গরা বাজার থানার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ী গ্রামের পূর্বপাড়া ধরেরপাড় এলাকায় এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাহাবুব আলম ওরফে মাসুমের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, নিহতের চোখ ও মাথা থেঁতলানো ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় দুই ব্যক্তি একটি সন্দেহজনক অটোরিকশা বিক্রির চেষ্টা করছে। তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মো. নাঈম ইসলাম (২৩), পিতা- বিল্লাল হোসেন, দক্ষিণ টিলী, দাউদকান্দিকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং জানায়, সে তার সহযোগী আরমান সরকার (২০), পিতা- লিটন সরকার, হিরাপুর/গকুলনগর, বাঙ্গরা বাজারের সঙ্গে মিলে মাহাবুব আলমকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করে।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে এবং অপর অভিযুক্ত আরমান সরকারকেও গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ জানায়, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য মামলা হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন এবং মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
