কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে শতবর্ষী এক বৃদ্ধকে মারধর ও ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলম ভুঁইয়া (১০০)-কে তার ছেলে মো. খলিলুর রহমান কয়েকদিন ধরে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার গোঙানির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর প্রথমে খোরশেদ আলমকে গৌরীপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
খোরশেদ আলমকে উদ্ধারকারী ফারুক মোল্লা বলেন, “সম্পত্তির লোভে ছেলেই তার শতবর্ষী বাবাকে মারধর করে এবং না খেতে দিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে। আমরা তার গোঙানির শব্দ শুনে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করি। একজন সন্তান এভাবে বাবাকে নির্যাতন করতে পারে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত খলিলুর রহমান বলেন, তার বাবা ঘরে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। তিনি কোনো ধরনের মারধরের সঙ্গে জড়িত নন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
