Spread the love

কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় নামধারী যুবদলের কর্মী আকিবুর রহমান আকিবসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আহত জামাল হোসেন (৪৮) নগরীর উত্তর রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা। তার স্ত্রী তাছলিমা আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রায় এক বছর আগে জামাল হোসেন রেইসকোর্সের ধানমন্ডি ৬ নম্বর এলাকায় প্রায় ৮ দশমিক ৭৫ শতক জমি বায়নামূলে ক্রয় করেন। পরে ওই জমির প্রবেশপথে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা জমির মালিকানার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বরং তারা দাবি করেন, জমিটি অন্য কারও কাছে বিক্রি করতে হলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় জামাল হোসেনকে প্রাণে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, সম্প্রতি জমিটি বিক্রির পর নতুন ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে দিতে গেলে অভিযুক্তরা আবারও বাধা দেয় এবং দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও পিস্তল প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে রেইসকোর্স এলাকার এস কে স্পোর্টসের সামনে থেকে জামাল হোসেনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। পরে বায়তুল আমান ও তোফায়েল হোসেনের বাসার সামনের একটি খালি স্থানে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধভাবে হামলা করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার নেতৃত্বে থাকা আকিবুর রহমান আকিব ধারালো দা দিয়ে জামাল হোসেনের মাথায় কোপ দেন। পরে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়েন। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান।

স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আহতের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—আকিবুর রহমান আকিব, রঞ্জু, মো. জানে আলম জনি, রুবেল, জুহেব, সানি, সুমন ওরফে পিচ্চি সুমন, অপু, সুমন, মো. বাসেল, মো. এনামুল হক দীপু ওরফে ডাইল দীপু, মো. রাকিব ও রেনু মিয়া।

আহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বলেন, “অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে জমি দখলের উদ্দেশ্যে আমার স্বামীর ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আকিবুর রহমান আকিব বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক শিল্পী বলেন, “আকিব যুবদলের কেউ নন। যে দল ক্ষমতায় আসে, সে সেই দলের অনুসারী হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।”

কোতয়ালী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভুক্তভোগীর পরিবার হামলার ঘটনায় জড়িত ১৩ জনসহ অজ্ঞাত অন্যান্য ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়