Spread the love

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পরে দেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন তিনি। এ ঘটনায় জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামীকে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখেন। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। মরদেহের মাংসের কিছু অংশ শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে চাইলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা আক্তারকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

অভিযুক্ত আসমা আক্তার পুলিশের কাছে দাবি করেন, তার স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী মাটিতে পড়ে যান। তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।”

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখে ওই নারী। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়