চুয়াডাঙ্গায় টিকটক ভিডিও তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার অভিযোগ তুলে এক নারীর (৩৫) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে শহরতলির দৌলতদিয়াড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই নারী। সেখানে তিনি তার দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহ নিজ বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড় এলাকায় আনা হলে স্থানীয়দের একটি অংশ দাফনে আপত্তি তোলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে নাচ-গান ও টিকটক ভিডিও তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় সমালোচনা ছিল বলেও দাবি করেন তারা। পাশাপাশি পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনে অস্বীকৃতি জানান কয়েকজন বাসিন্দা।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকাবাসীর আপত্তি ছিল। টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কার্যক্রম ভালোভাবে দেখেনি কেউ। এছাড়া তারা এই কবরস্থানের সদস্যও নয়।”
অন্যদিকে, এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃত নারীর পরিবারের সদস্যরা। তার সৎবাবা বলেন, “এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যকে এখানেই দাফন করা হয়েছে। এখন কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না। কবর খুঁড়তেও দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে অন্যত্র দাফনের কথা ভাবতে হচ্ছে।”
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর প্রথম বিয়ে হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায়। সেই সংসারে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি প্রথম স্বামীকে ছেড়ে ঝিনাইদহের শৈলকূপার এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক দাম্পত্য অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।”
