প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুমিল্লা সফরকে ঘিরে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে “কুমিল্লা বিভাগ” ঘোষণার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বৃহত্তর কুমিল্লার সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে কুমিল্লার নামেই নতুন বিভাগ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
আগামী রোববার (১৬ মে) বেলা ১১টায় কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কের পাশে বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও “কুমিল্লা বিভাগ” বাস্তবায়নের দাবিতে নানা প্রচারণা ও লেখালেখি চলছে।
সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, দেশের অন্যান্য বিভাগের মতোই ঐতিহ্য, ইতিহাস ও জনসংখ্যার দিক বিবেচনায় কুমিল্লার নামেই বিভাগ হওয়া উচিত। তারা বলেন, “কুমিল্লা বিভাগের দাবি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। দ্রুত সময়ের মধ্যে কুমিল্লার নামেই বিভাগ ঘোষণা করা প্রয়োজন।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সভাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) কড়া নজরদারি শুরু করেছে।
এদিকে সফরকে কেন্দ্র করে সভাস্থল প্রস্তুতকরণ, মাঠ পরিচর্যা এবং কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। মহাসড়কের বিভাজক ও সড়কদ্বীপে নতুন রঙের প্রলেপ ও সাজসজ্জা করা হচ্ছে।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একাধিকবার সভাস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে প্রশাসনিক প্রস্তুতি তদারকি করছেন। জনসমাগম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা, নিরাপত্তা জোরদার এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক কর্মতৎপরতা দেখা গেছে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, “শনিবার চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে যাওয়ার পথে বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন। সংক্ষিপ্ত এই সফরকে ঘিরে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছি। প্যান্ডেল তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে।”
জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সভাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এসএসএফের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। সব মিলিয়ে একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।”
