কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দেওয়া তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার (১০ মে) তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি *“Mobasher Bhuiyan MP”* থেকে “আমার ফাঁসি চাই” শিরোনামে একটি পোস্ট দেন।
পোস্টে তিনি লিখেন,
“আমার ফাসি চাই: এই নিউজ মনোযোগ দিয়ে পড়েন। কোন শব্দের জন্য আমার ফাঁসি হওয়া উচিত বলে মনে করেন? কী ছিল এই বৈঠকের উদ্দেশ্য? এই বৈঠকে যাহা বলেছি, যে উদ্যোগ নিয়েছি সব বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ। আমার নির্বাচনী এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করব।”
এছাড়া তিনি “সঠিক গণমাধ্যমকর্মী চিহ্নিত করে তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত” করা এবং “হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ” করার কথাও উল্লেখ করেন।
জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। সেখানে তিনি বলেন,
“আমি আপনাদের সহযোগিতায় এমপি হই নাই। গত ১৭ বছর আপনাদের কাউকে দেখি নাই নাঙ্গলকোটকে নিয়ে একটি নিউজ করতে। সুতরাং ৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে। আমি যেভাবে চাই, সেভাবে চলতে হবে।”
তার এই বক্তব্যের ভিডিও রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
সভায় তিনি নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে উদ্দেশ করে একাধিকবার “ফ্যাসিস্টের দোসর” বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বিএনপির সাবেক নেতা আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সঙ্গে তার ছবি দেখিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং তাকে ক্ষমা চাইতেও বলা হয়।
সভায় উপস্থিত অন্য সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তাদেরও ধমক দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কেউ সংবাদ প্রকাশ করলে “দেখে নেওয়া হবে” বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে কয়েকজন সাংবাদিক দাবি করেন।
এ সময় এমপি আরও বলেন,
“এখানে একজন সাংবাদিকও কিছু লিখেনি। লিখলে নাঙ্গলকোটের বেহাল দশা থাকত না, আরো উন্নত হতো।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, তিনি মূলত নাঙ্গলকোটে বিভক্ত সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে ওই সভার আয়োজন করেছিলেন।
তিনি বলেন,আমি চেয়েছি সাংবাদিকদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এবং পেশাদার সাংবাদিকদের একটি কমিটি গঠন করতে। প্রয়োজনে তাদের জন্য একটি ফান্ড দেওয়ার কথাও বলেছি। কিন্তু বিষয়টি উল্টোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের “ফ্যাসিস্টের দোসর” বলার বিষয়ে তিনি বলেন,
“দোসরকে দোসর বলেছি, এতে সমস্যা কোথায়? আমি আমার চাচাকেও ছাড় দিইনি।”
