দেশের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) একদিনেই ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে জনমনে। গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, জামালপুরসহ দেশের একাধিক এলাকায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, বেশিরভাগ ঘটনায় খোলা মাঠে কাজ করার সময় বা আশ্রয়হীন অবস্থায় বজ্রপাতে নিহত হন ভুক্তভোগীরা। প্রতি বছরই এ ধরনের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, যার অন্যতম কারণ হিসেবে অসচেতনতা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা না মানাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলে বজ্রপাতে হতাহতের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
কী করবেন:
বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা জরুরি। ধানক্ষেত, মাঠ বা ছাদে অবস্থান করলে দ্রুত নিচু হয়ে বসে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে। সম্ভব হলে পাকা কংক্রিটের ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
উঁচু গাছ, বিশেষ করে তালগাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়িতে থাকলে দরজা-জানালা বন্ধ রেখে জানালা থেকে দূরে থাকতে হবে। পুকুর, নদী বা জলাশয় থেকে দ্রুত সরে আসা জরুরি, কারণ পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী।
খোলা জায়গায় একাধিক ব্যক্তি থাকলে পরস্পরের থেকে অন্তত ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বজ্রপাতের আশঙ্কা হলে কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসা নিরাপদ, তবে মাটিতে শুয়ে পড়া ঝুঁকি বাড়ায়। রাবারের জুতা ব্যবহার কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।
বাড়িতে বজ্রনিরোধক রড স্থাপন ও সঠিক আর্থিং ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কী করবেন না:
খোলা স্থানে একা দাঁড়িয়ে থাকা বিপজ্জনক। উঁচু গাছ বা অস্থায়ী ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ধাতব বস্তু যেমন কল, পাইপ, রেলিং বা ল্যান্ডলাইন ফোন স্পর্শ করা উচিত নয়।
বজ্রপাতের সময় টিভি, ফ্রিজসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার না করা এবং আগেই প্লাগ খুলে রাখা নিরাপদ। গাড়ির ভেতরে থাকলেও ধাতব অংশ বা কাচ স্পর্শ না করাই ভালো। এছাড়া পানিতে থাকা বা নৌকায় মাছ ধরা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
আগাম লক্ষণ:
বজ্রপাতের আগে কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে—চুল খাড়া হয়ে যাওয়া, ত্বকে শিরশির অনুভূতি, ধাতব বস্তুতে কম্পন বা ‘ক্রি ক্রি’ শব্দ। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
আহত হলে করণীয়:
বজ্রপাতে কেউ আহত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। শ্বাস-প্রশ্বাস বা হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োগের চেষ্টা করতে হবে এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো সতর্কতা গ্রহণই পারে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে।
