Spread the love

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এক ভুক্তভোগী নারী খারিজ (নামজারি) সংক্রান্ত আবেদন নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে ঘুরছেন। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হলেও এখনো তার আবেদনটির শুনানি সম্পন্ন হয়নি। বারবার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি বিষয়টি সাংবাদিকদের অবগত করেন।

এদিকে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগের ভিডিও ধারণ করতে গেলে “ফেস দ্যা পিপল” প্রতিনিধি আব্দুল আলিম ও মানবজমিন প্রতিনিধি রাসেল হেনস্থার শিকার হন।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর পুলিশ ডেকে এনে ওই দুই সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় নিয়ে যান এবং দীর্ঘ সময় আটকে রাখেন। এছাড়া তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।

পরে বিষয়টি আর না বাড়ানোর শর্তে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে আটক দুই সাংবাদিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নামজারির আবেদন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি অনিয়মিত পদ্ধতি চালু রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার পর হার্ড কপি সংগ্রহ করে তথাকথিত দালালের সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হয়। নির্ধারিত দালাল না থাকলে আবেদনকারীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করা হয়। চুক্তির পর ফাইলে সাংকেতিক চিহ্ন দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে ফাইল অগ্রসর করা হয় এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ঘুষ লেনদেনের হিসাব করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার হারং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, “আমার এক আত্মীয়ের নামজারি আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর শেষ পর্যন্ত এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করতে হয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজের সহকারী অধ্যাপক জানান, চান্দিনা বাজার এলাকার একটি নামজারি করতে গিয়ে নানা অজুহাতে আবেদন বাতিল করা হয়। পরে দীর্ঘ হয়রানির পর দুই লাখ টাকার বিনিময়ে নামজারি করতে বাধ্য হন তিনি।

ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়