ফেনীর পরশুরামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে পরশুরাম বাজারের প্রায় ২০০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিরা ইসলামের নাম ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে এ টাকা আদায় করা হয়। এতে ঈদের ছুটির পর প্রথম দিন দোকান খুলেও বিক্রি না হলেও বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতে হয়েছে বলে জানান তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোক্তা মনসুর আহাম্মদ, অফিস সহায়ক সাইফুল এবং বণিক সমিতির পরিচয়ে নুরুল আলম ও মহিউদ্দিন বাজারের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে এ চাঁদা সংগ্রহ করেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতা দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য কেন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হবে। তারা ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাঁদা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। পরশুরাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক এস এম সাফায়াত আক্তার নূর বলেন, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা বণিক সমিতির নাম ব্যবহার করে চাঁদা তোলার কথা স্বীকার করেছেন। ইতোমধ্যে সংগৃহীত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও সাদিরা ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি শোনার পর ব্যবসায়ীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাউকে চাঁদা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে থাকে, তার দায় প্রশাসন নেবে না।”
এ বিষয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। ইউএনও’র সঙ্গে কথা বলে ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
