চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের হাসপাতাল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত রোগীদের বেড থেকে সরিয়ে নেতাকর্মীদের শোয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিদর্শন শেষে এমপি চলে গেলে ওই নেতাকর্মীরাও হাসপাতাল ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে। এ সময় এমপির সঙ্গে শতাধিক নেতাকর্মী হাসপাতালে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্বাসকষ্ট ও আহত রোগী বেডে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অধিকাংশ বেড খালি দেখা যায়।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা বৃদ্ধ আলমগীর (৬৫) অভিযোগ করেন, “আমি এক সপ্তাহ ধরে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি আছি। সোমবার ৩০-৪০ জন লোক এসে আমাদের বের করে দিয়ে নিজেরা বেডে শুয়ে পড়ে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আমরা অসুস্থ অবস্থায় বাইরে বসে ছিলাম। এমপি চলে যাওয়ার পর তারা বের হয়ে গেলে আমরা আবার ভেতরে ঢুকতে পারি।”
আরেক রোগী মোহাম্মদ হোসেন (৫০) বলেন, “আমাদের বলা হয় ভিআইপি রোগী আসবে, তাই সিট ছাড়তে হবে। পরে তারা আমাদের সিটে শুয়ে পড়ে। এমপি আসার পর তার ছেলে তাদের দুই হাজার টাকা করে দেন বলে শুনেছি। আমাদের সঙ্গে কেউ কথা বলেননি।”
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আগের দিন হাসপাতালে ৭৮ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। সোমবার সকালে অর্ধেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। বেলা ১১টার দিকে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ২৩ জন জরুরি বিভাগে এসে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে আলী হোসেন (৩৯), মঈন উদ্দিন (৩২), নাছির খান (২৭), নেজাম উদ্দিন (৪২) ও উত্তম তালুকদার (৫০) রয়েছেন। তারা বিকালেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দীন চৌধুরী বলেন, “যে কোনো রোগী এলে চিকিৎসা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সোমবার সকালে নির্বাচনকালীন সময়ে আহত ২৩ জন ভর্তি হন। দুপুরে এমপি সাহেব এসে তাদের দেখে যান। পরে তারা বিকালে রিলিজ নিয়ে চলে যান।”
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বিভিন্ন সংঘর্ষে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আহত হন। নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। শপথ গ্রহণ শেষে গত রোববার তিনি এলাকায় ফিরে সোমবার আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।
