জাতীয়

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার যানজট, অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর মৃত্যু

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকাগামী লেনে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর এ যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার পথে আমিরুন্নেছা নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত আমিরুন্নেছা লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের স্বজন তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রাত আটটার দিকে আমিরুন্নেছাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশে নেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি দাউদকান্দিতে পৌঁছালেও তীব্র যানজটের কারণে আর সামনে এগোতে পারেনি। প্রায় চার ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর রাত তিনটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা হাজারো যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে বাগেরহাটগামী একটি বাসের যাত্রীরা জানান, রাত আড়াইটার দিকে তাঁরা দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় যানজটে আটকা পড়েন। সকাল আটটা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় তাঁরা মাত্র ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আমিরাবাদ এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হন।

ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী একটি বাসের চালক রিপন মিয়া বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সংস্কারকাজ চলাকালে যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সার্বক্ষণিক ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় তীব্র গরমে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।

ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম জানান, সোনারগাঁয়ের আশরিয়ারচর এলাকায় ঢাকাগামী লেনে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালেও যানজট অব্যাহত ছিল।

তিনি বলেন, যানজটে আটকে থাকা যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি কমাতে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচ্ছেন।