১৩ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে, পলাতক শিক্ষক
ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একটি মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক মাওলানা আব্দুল বারীর (৫০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। অভিযোগটি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসা ও শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এ সময় শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পুলিশ। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট কালিয়াকৈর এলাকার তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। বুধবার ওই ছাত্রী বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানায়। পরে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর চালান।
খবর পেয়ে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে নিরাপদে থানায় নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন ভবনটিতে ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ সদস্যসহ সেখানে থাকা অন্য ব্যক্তিরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে সাভার মডেল থানা ও ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পাঁচতলা একটি ভবনে মাদরাসা ও শিক্ষকের পরিবারের বসবাসের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘটনার সময় অভিযুক্ত শিক্ষক সেখানে ছিলেন না। তবে তাঁর স্ত্রী ও ছেলে ভবনটিতে অবস্থান করছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, ঘটনার সময় তাঁরাও পুলিশের সঙ্গে ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। পরে সাভার থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভাঙচুরের পাশাপাশি ভবন থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়রা মাদরাসা ও তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালান। শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে নিরাপদে সরিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল মোতায়েন করা হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল বারী ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্য কোনো শিক্ষার্থীও ভুক্তভোগী হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
