কুমিল্লার সংবাদ

কুমিল্লায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হেনস্তার শিকার

কুমিল্লা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে মাঠ পর্চা প্রদানের ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন দৈনিক নয়া দিগন্তের জেলা প্রতিনিধি (ডিজিটাল) ফাহিম মুনতাসিম এবং এনটিভি অনলাইনের আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ প্রতিনিধি আবু সুফিয়ান। এ সময় এক সাংবাদিকের হাতে থাকা মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে আছড়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে রহিম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা জেলা পরিষদের ভিআইপি গেস্ট হাউসের সীমানার ভেতরে অবস্থিত জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, সেটেলমেন্ট অফিসে মাঠ পর্চা প্রদানসহ বিভিন্ন সেবা পেতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে তাঁরা সেখানে যান। এ সময় অফিসের সার্ভেয়ার ও রেকর্ড কিপার হিসেবে পরিচিত মেহরাব খানের কাছে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি চেয়ার থেকে উঠে চলে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা তাঁর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে উপস্থিত রহিম নামে এক ব্যক্তি এক সাংবাদিককে টেনে বাইরে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তাঁর হাতে থাকা মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে আছড়ে ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।

ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সাংবাদিকদের দাবি, এর আগেও ওই অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে তাঁদের কাছে একাধিক অভিযোগ আসে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তাঁরা ছদ্মবেশে অফিসে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নিতে গেলে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁদের ওপর হামলা চালান।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের কাছে থাকা একটি গোপন ভিডিওতে মেহরাব খানকে সরকারি নথি ও জনগণকে সেবা দেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও মাইক্রোফোন ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ-এর কুমিল্লা জেলা শাখা।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এক বিবৃতিতে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হেনস্তা এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম ভাঙচুর স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সরকারি দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হামলার শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, একই অফিসে এর আগেও সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে। তাই ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনের কারণ অনুসন্ধান করে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে দালালচক্রের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা-ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।

বিবৃতিতে সংগঠনটি হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি অফিসে দালালদের অবৈধ তৎপরতা বন্ধ এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকের ভাঙচুর করা সরঞ্জামের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ-এর কুমিল্লা জেলা শাখা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি দপ্তরে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে জনস্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।