মহাত্মা গান্ধী গুডউইল অ্যাওয়ার্ড পেলেন কালের কণ্ঠের ফারুক মেহেদী
মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ ও অহিংসার দর্শন প্রচারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মহাত্মা গান্ধী গুডউইল অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, সাংবাদিক ও লেখক ফারুক মেহেদী।
মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রবিবার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত আলোচনা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিশ্বজুড়ে সহিংসতা, সংঘাত ও বিভাজনের প্রবণতা বাড়তে থাকায় মহাত্মা গান্ধীর অহিংসা, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের দর্শন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলার যে বার্তা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও শান্তিকামী মানুষের পথ দেখায়। তাঁর জীবন ও আদর্শের তাৎপর্য তুলে ধরা এবং অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন ২ অক্টোবর। দিনটি জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব অহিংসা দিবস হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী শান্তি ও সম্প্রীতির অগ্রদূত। তাঁর আদর্শ আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা আমাদের কাছে অনেক বেশি। দেশে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চর্চা বাড়াতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে অবস্থিত। ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি নিজেকে আশ্রমের পাহারাদার মনে করেন। তিনি বলেন, ‘গান্ধী আশ্রমকে ঘিরে ভবিষ্যতে আমরা একটি পর্যটন বলয় গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দিতে চাই। তিনি চিরঞ্জীব। তাঁর অহিংসার আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে বলেন, বিভেদ ও সংঘাতের বিপরীতে শান্তি, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির চর্চাই মানবিক সমাজ নির্মাণের অন্যতম শর্ত। মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও কর্ম সেই চিরন্তন সত্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
সম্মাননা গ্রহণ করে ফারুক মেহেদী বলেন, ‘পুরস্কার সব সময়ই আনন্দের। মহাত্মা গান্ধীর মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি সারা জীবন অহিংস ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসারে কাজ করেছেন, তাঁর নামে আমাকে মহাত্মা গান্ধী গুডউইল অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। এটিকে আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন বলে মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিজনেস সাংবাদিকতার পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ অনুসরণ করে কাজ করার চেষ্টা করছি। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁর আদর্শ প্রচারেও কাজ করেছি। তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত আমার প্রামাণ্যচিত্র ‘শান্তির অগ্রদূত’ এ ক্ষেত্রে অন্যতম কাজ। আমাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার এবিএম হামিদুল মেজবাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সিইও ও পরিচালক রাহা নবকুমার।
