কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে তাস খেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগের তীর উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ কয়েকজনের দিকে।
জানা গেছে, উপজেলার দুলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে রাতের বেলায় তাস ও জুয়া খেলার আয়োজন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের কক্ষের ভেতরে বসে তাস খেলতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে দুলালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ আলম, যুবদল নেতা মাহবুব মেম্বার, বিএনপি নেতা এরশাদ জামান ও রুবেল মিয়াসহ আরও কয়েকজনকে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের স্থান কোনোভাবেই তাস খেলার আসরে পরিণত হতে পারে না। এমন ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মাসুদ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মোশাররফ হোসেন সুমন ও নৈশপ্রহরী জুয়েল মিয়ার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বলেন, “ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, “বিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমরা দেখেছি। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার আগেই খবর পেয়ে এসআই আল আমিনের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে সেখানে কাউকে পায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, কোরবানির পশুর হাটের ইজারার হিসাব-নিকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে বিদ্যালয়ের কক্ষের চাবি নেওয়া হয়েছিল। হিসাব-নিকাশ শেষে তারা সেখানে বসে তাস খেলেছিলেন তবে জুয়া না । এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
