ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় ঝড়ে উপড়ে পড়ে যাওয়া একটি গাছ কাটার পর আবার দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে গাছটি দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ গাছের শিকড় সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দেড় মাস আগে একটি শক্তিশালী ঝড়ে গাছটি শিকড়সহ উপড়ে মাটিতে পড়ে যায়। প্রায় এক মাস মাটিতে পড়ে থাকার পর গাছটি বিক্রি করা হয়। পরে কাঠুরিয়া গাছটির ডালপালা ও বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলেন। এ সময় হঠাৎ করেই গাছের অবশিষ্ট অংশটি আবার আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে যায় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় মুন্সীবাড়ির একটি পুকুরপাড়ে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার গাছের একটি অংশ দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাছটির নিচের অংশে লাল কাপড় বাঁধা হয়েছে। অনেকেই সেখানে আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালাচ্ছেন। কেউ কেউ মানত করছেন এবং গাছের শিকড় সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শারমীন সুলতানা বলেন, “আমি গাছটি ঝড়ে পড়ে যেতে দেখেছি, আবার দাঁড়াতেও দেখেছি। গাছ কাটার পর হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলে আমি চিৎকার করে সবাইকে ডাকি।”
মুন্সীবাড়ির সদস্য আবুল বাশার মুন্সী বলেন, “প্রচণ্ড ঝড়ে গাছটি পড়ে গিয়েছিল। পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। কাটার পর এটি আবার দাঁড়িয়ে যায়। আমরা এটাকে আল্লাহর কুদরত বলেই মনে করি।”
গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, “কীভাবে এমন হয়েছে তা আল্লাহই ভালো জানেন। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ গাছটি দেখতে আসছেন। অনেকে শিকড় নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের বিশ্বাস এতে রোগবালাই ভালো হবে।”
প্রতিবেশী আঁখি বেগম বলেন, “গাছটি পড়ে থাকার সময় এর ওপর দিয়েই চলাচল করেছি। পরে কাটার পর আবার দাঁড়িয়ে যেতে দেখেছি। এমন ঘটনা আগে কখনো দেখিনি।”
আরেক প্রতিবেশী ফরিদ মুন্সী বলেন, “গাছটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে। বিষয়টি আমাদের কাছেও বিস্ময়কর।”
গাছটি কাটার কাজে নিয়োজিত কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া জানান, “গাছটি শিকড়সহ উপড়ে পড়ে ছিল। মাটিতে থাকা অবস্থাতেই আমি ডালপালা কাটতে শুরু করি। একপর্যায়ে গাছটির অবশিষ্ট অংশ আবার দাঁড়িয়ে যায়। তবে এতে জিন-ভূতের কোনো বিষয় আছে বলে আমি মনে করি না।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে গাছটি কীভাবে আবার দাঁড়িয়ে গেল, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিশেষজ্ঞ মতামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের একাংশ এটিকে অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখলেও অন্যরা এর পেছনে প্রাকৃতিক বা ভৌত কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন।
