সরকার চলতি বছর গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ালেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে এসে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, মসজিদ-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও কোরবানিদাতারা। অভিযোগ উঠেছে, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি পিস গরুর চামড়ায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দাম পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ছাগলের চামড়া কিনতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও স্থানীয় সংগঠন কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছে। পরে এসব চামড়া কিনে নেন আড়তদার ও ট্যানারির প্রতিনিধিরা। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা চামড়া নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না বিক্রেতারা।
মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার দাম বাড়ালেও ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে সেই দামে চামড়া কেনার নিশ্চয়তা পাননি তারা। বরং ট্যানারির পক্ষ থেকে গত বছরের তুলনায় কম দামে চামড়া কেনার কথা বলা হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে চামড়া কিনছেন তারা।
তবে ট্যানারি মালিকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কমেনি, বরং প্রতি পিসে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৩ মে খাত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে চলতি বছরের চামড়ার দাম নির্ধারণ করে। সে অনুযায়ী ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।
সরকারি হিসাবে ছোট আকারের গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম হওয়ার কথা ৯৯০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মাঝারি আকারের চামড়া ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা এবং বড় আকারের চামড়া ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট আকারের কাঁচা গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। মাঝারি আকারের চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। অথচ গত বছর একই ধরনের চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
এদিকে ছাগলের চামড়ার অবস্থা আরও করুণ। প্রতি পিস ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকায়। অনেক এলাকায় ব্যবসায়ীরা ছাগলের চামড়া কিনতেই আগ্রহ দেখাননি।
চামড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যানারি পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব, সংরক্ষণ সংকট এবং নগদ অর্থের ঘাটতির কারণে প্রতিবছরের মতো এবারও সরকার নির্ধারিত দামের প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। ফলে কোরবানির চামড়া নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
