কুমিল্লার দেবীদ্বারে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রোধে অভিযান চালিয়ে ‘রেড ৯৯৯’ ও ‘বিজিএম’ নামের দুই কিশোর গ্যাংয়ের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (২০ মে) দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজেলা সদরে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দেবীদ্বার উপজেলা সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০ জন কিশোরকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ৮ জনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন দেবীদ্বার পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া হাজীবাড়ির মো. সোহরাব খানের পুত্র জাভেদ (১৯), মুরাদনগর উপজেলার পাইয়া গ্রামের মো. আমির হোসেনের ছেলে মো. তুহিন (২০), দেবীদ্বার পুরাতন বাজারের শাহ জালালের ছেলে মো. শাহীন (২০), পিরজপুর গ্রামের ইদ্রিছ মেম্মোব বাড়ির মো. মনু মিয়ার ছেলে মো. শাহীন (১৮), দেবীদ্বার পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া হাজী বাড়ির মো. নুর নবীর ছেলে মো. সাদাত হোসেন (১৯), একই বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে সাকিবুল হাসান (১৮), মো. আল আমিনের ছেলে মো. সাইমন (১৮) ও মো. মনির মিয়ার ছেলে মো. ফয়সাল মিয়া (১৮)।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, সম্প্রতি দেবীদ্বার পৌর এলাকায় একের পর এক কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, মাদক সেবন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা বেড়ে গেছে। গত ১৮ মে ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধের জেরে মারধর ও দুটি মোবাইল ফোন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২০ মে উপজেলা পরিষদ গেইট ও শান্তি রোড এলাকায় অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাগর বড়ুয়া বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২৫-৩০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ‘রেড ৯৯৯’ ও ‘বিজিএম’ গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকায় শক্তির মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এক সরকারি কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘এসব গ্রুপে আমার সন্তান যুক্ত হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে ধ্বসের পথে, নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে। আমি নিজেই আমার সন্তানের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছি না। মাদক আর কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাবে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদের অনেককেই ২৪’র অভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। এখনো দু’টি দলের ছত্রছায়ায় অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আটক ৮ কিশোরগ্যাং সদস্যদের থানা হাজতে এক নেতা খাবার পরিবেশন করতেও দেখা গেছে। কিভাবে মাদক, কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ম্য কমবে?’
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কিশোর গ্যাং ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্যে আমরাও উদ্বিগ্ন। ইতোমধ্যে ৮ জনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এছাড়া ‘রেড ৯৯৯’ ও ‘বিজিএম’ ছাড়াও এলাকায় সক্রিয় অন্যান্য গ্যাং সদস্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
