বৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লার ১৭ উপজেলায় বৈদ্যুতিক সংযোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার দক্ষিণাঞ্চল। ঝড়ো বাতাসে খুঁটি উপড়ে পড়া, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হওয়ায় হাজারো গ্রাহক ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপনে কাজ চলছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেরামত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত দুই দিনে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর অধীনে আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় মোট ৭১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। প্রায় ১ হাজার ২৫টি স্থানে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর গাছ পড়ে। এছাড়া ৫৫০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৭৩৮টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এতে প্রায় ২৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, “গত ২৬ এপ্রিলের পর সব সংযোগ চালু করা হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবারের ঝড়ে আবারও সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো পুনরুদ্ধারে দিনরাত কাজ চলছে।”
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ে এসব এলাকায় প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগ সংস্কার করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান বলেন, “ঝড়ের পর থেকেই আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে আরও সময় লাগবে।”
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানান, উপজেলার ভবানীপুর, এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লায় পল্লী বিদ্যুতের চারটি সমিতির মোট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ত্রাণ ও দুর্যোগ দপ্তরও জানিয়েছে, অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লা আবহাওয়া কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
