Spread the love

আজ মহান মে দিবস—শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দিন। অথচ এই দিনেও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অন্যান্য বছরের মতো শ্রমিকের ভিড় নেই; বরং শ্রমিক সংকটে পানির নিচে ডুবে নষ্ট হচ্ছে পাকা বোরো ধান।

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাওরের বিস্তীর্ণ জমির পাকা ধান এখন পানির নিচে। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে সোনালি ফসল। কোথাও কোথাও কৃষকরা নৌকা ব্যবহার করে পানির নিচ থেকে ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকারি ভর্তুকিতে দেওয়া প্রায় ৫০০টি কম্বাইন হার্ভেস্টর থাকলেও জলাবদ্ধতা ও কাদার কারণে সেগুলো হাওরে নামানো সম্ভব হয়নি। রাস্তা ও জাঙ্গাল পানির নিচে থাকায় যান্ত্রিকভাবে ধান কাটাও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে ২১ এপ্রিলের পর থেকে টানা বৃষ্টি, বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর কারণে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কোমর থেকে বুকসমান পানিতে নেমে কাজ করতে অনীহা থাকায় শ্রমিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। যদিও বেসরকারি হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ ৬০ হাজার হেক্টরেরও বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে।

দেখার হাওরের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক বশির উদ্দিন বলেন, “প্রতি কেয়ারে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ২৭ এপ্রিল ধান ডুবে গেছে। এখন নৌকা দিয়ে কষ্ট করে ধান কাটছি। ঋণ কীভাবে শোধ করবো বুঝতে পারছি না।”

জামালগঞ্জের গজারিয়া গ্রামের কৃষাণী আনোয়ারা বেগম জানান, তাদের প্রায় ২৪ কিয়ার জমির ধান পানির নিচে। কিছু ধান কাটলেও মাড়াইয়ের পর অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি ধান কাটার মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, “এক সপ্তাহ আগেই ৬০ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান ডুবে গেছে। এবার কৃষকরা ৩০ শতাংশ ফসলও ঘরে তুলতে পারেননি।”

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, “প্রতিটি হাওরেই জলাবদ্ধতায় পাকা ধান ডুবে আছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন ফসল নষ্ট হয়েছে। শ্রমিক পাওয়া গেলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।”

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে আবহাওয়া কিছুটা উন্নত হওয়ায় কৃষকরা ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ শুরু করেছেন। তবে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে আরও সময় লাগবে।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়