ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের হামলা থামেনি। বরং সামনে হামলার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই পরিস্থিতিতে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরান বর্তমান গতিতে হামলা চালিয়ে গেলে উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্রুত চাপে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা হামলা অব্যাহত থাকলে এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত জোরদার করছে। দুই দেশের সরকার জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে এবং পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর মজুত আছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশটি এ পর্যন্ত ১৮২টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে ১৬৯টি প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া ৬৮৯টি ড্রোনের মধ্যে ৬৪৫টি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৪৪টি ড্রোন বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।
অন্যদিকে কাতার জানিয়েছে, তারা ১০৪টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ১০১টি প্রতিহত করেছে। এছাড়া ৩৯টি ড্রোনের মধ্যে ২৪টি ভূপাতিত করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যের হার দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন হবে। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিডলইস্ট ইনস্টিটিউটের ফেলো জিন-লুপ সামান সিএনএনকে বলেন, “ইরানের হামলার তীব্রতা বিবেচনায় নিলে সংযুক্ত আরব আমিরাত এক বা দুই সপ্তাহের বেশি বর্তমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারবে না।”
দি ইকোনমিস্টের প্রতিরক্ষা সম্পাদক শশাঙ্ক জোশির মতে, ইরানের হাতে বিভিন্ন পাল্লার প্রায় ২ হাজার ৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোর ইন্টারসেপ্টর মজুতের পরিমাণ অজানা হলেও দ্রুত ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট দ্রুত তৈরি হতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো হাসান আলহাসান বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল হলে উপসাগরীয় দেশগুলো আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নিতে পারে। তাদের উন্নত ও বৈচিত্র্যময় বিমানবাহিনী সক্রিয় হলে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
সার্বিক পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
