বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিএনপির আমলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট, দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপি বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতীয় সংসদে হট্টগোল হয়েছে। এ সময় সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানাকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও ওঠে।
বুধবার জাতীয় সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলের ওপর আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, “প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না, সেটাও হইতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না।”
রুমিনের এ বক্তব্যের পর বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তবে হট্টগোলের মধ্যেও তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান।
তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হইতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার উপরে ঋণখেলাপি হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।”
হট্টগোলের মধ্যে রুমিন বলেন, “এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা, মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।”
ঋণখেলাপিদের নিয়ে মন্তব্যঃ
ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “এই সংসদে বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। ওই নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা, এগুলা আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলা আমরা বহুত দেখছি।”
রুমিনের নির্ধারিত সময় শেষ হলে তার মাইক বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও তিনি মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন। সরকারি দলের সদস্যদের হইচইয়ের পাল্টায় বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যও মাইক ছাড়াই প্রতিবাদ করেন।
একপর্যায়ে রুমিন দাঁড়িয়ে ডেপুটি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন, তাকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে।
এ সময় এনসিপির সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।”
তিনি বিরোধী দলের অন্য সদস্যদেরও প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদ সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। পরে এনসিপির আরেক সদস্য আখতার হোসেন বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে সংশোধনী আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না।
‘বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতির বাইরে’
হট্টগোলের সময় অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার ‘অর্ডার’ বলে সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “একজন মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছেন। তার কথা বলার সব অধিকার আছে। কিন্তু অন্যান্য সদস্যরা উনার বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান, সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির বাইরে।”
রুমিন তখনও দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে বসার অনুরোধ করেন।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকের এখানে স্বাধীনতা আছে, তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের সময় যখন আসে তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা কোনো অবস্থাতেই কাম্য না।”
‘কী বললেন, সব তো হারিয়ে গেল’
পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে হট্টগোলের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “হতে পারে তার (রুমিন) কথাগুলো সবগুলো সংগত নয়। আবার হতে পারে যে কথাগুলো তার গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো কিছুই শুনতে পারলাম না। কী উনি বললেন, সব তো হারায়ে গেল।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার রুলিং দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও তার জবাব দিতে পারেন। আজকে উনি কী বললেন, আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কী গালি দিলেন, না দোয়া দিলেন কিছুই বুঝলাম না।”
‘নিজেরও দৃষ্টি রাখা দরকার’
হট্টগোলের বিষয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “সংসদে সবাই কথা বলছেন এবং তারা চান সংসদেই সব সমস্যার সমাধান হোক। একজন সদস্য যখন কথা বলেন, তার নিজেরও দৃষ্টি রাখা দরকার। মাত্র কয়েকদিন আগে উনি (রুমিন) বিএনপির পক্ষে কথা বলেছেন।”
পরে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের কাছে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করেছেন। তবে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।
