গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার পেছনে থানা-পুলিশের কিছু সদস্য জড়িত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, সমঝোতার ভিত্তিতেই নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের ইউএনও সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলাম।
এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “মাটিখেকোরা মাটি কাটার আগে পুলিশকে জানায়— আমরা এই সময় থেকে ওই সময় পর্যন্ত মাটি কাটব। এসিল্যান্ড ও ইউএনও স্পটে যেতে যেতে পুলিশ তাদের আগেই সতর্ক করে দেয়। ফলে প্রশাসন গিয়ে কাউকে পায় না।”
তিনি আরও বলেন, “এক লাখ-দুই লাখ টাকা জরিমানা করলেও তারা এটাকে ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে ধরে নেয়। এই খরচ তাদের গায়ে লাগে না। আমি বলব, সমঝোতার ভিত্তিতেই গোমতী নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে থানা পুলিশের কিছু সদস্য জড়িত আছে।”
এমপি জানান, তিনি মঙ্গলবার রাতে গোমতী নদীর বিভিন্ন স্পট পরিদর্শন করেন। “আমি যাওয়ার খবর তারা আগেই পেয়ে যায়। ফলে সেদিন কেউ মাটি কাটার সাহস করেনি,”— বলেন তিনি।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “দেবিদ্বারে যে পাঁচটি স্পট থেকে মাটি কাটা হয়, ওই পাঁচটির একটিতেও যেন আর এক কোদাল মাটি কাটা না হয়। যদি এক কোদাল মাটি কাটা হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে আমি ধরে নেব, আপনারা প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেই তারা মাটি কাটার সুযোগ পাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আমি মনে করি, পুলিশের ভূমিকা এখানে খুবই জরুরি। আপনারা প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেবেন।”সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
