কুমিল্লা জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন একই কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী তাজমিনা আক্তার। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করেছেন, বদলি ঠেকাতে তার বিরুদ্ধে ‘নাটক’ সাজানো হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) সকালে কুমিল্লা জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগকারী তাজমিনা আক্তার বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। এতে সাড়া না দেওয়ায় তার প্রতি ক্ষুব্ধ হন তিনি। তাজমিনার দাবি, গত ২১ মে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে তাকে প্রকাশ্যে অপমান ও হেনস্তা করা হয়। এক পর্যায়ে এক স্টাফ তার দুই হাত চেপে ধরলে নির্বাহী প্রকৌশলী তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন। ঘটনার পরপরই তাকে কুমিল্লা থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “তাজমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে আগেই অফিসে অসদাচরণের অভিযোগ ছিল। বদলির আদেশ হওয়ার পর তা ঠেকাতে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন।”
তিনি আরও বলেন, গত ২০ মে একটি টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অফিসে তাজমিনা আক্তারের সঙ্গে সহকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তিনি তার কক্ষের বাইরে তালা লাগিয়ে দেন এবং পরে স্বামীসহ কয়েকজন বহিরাগতকে অফিসে নিয়ে আসেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাজমিনার বদলির আদেশ হয় বলে দাবি করেন তিনি।
আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় তাজমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রকৌশলী আবুল খায়ের থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে কুমিল্লাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
