Spread the love

মেহেরপুরে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর আওতায় দায়ের হওয়া জেলার প্রথম মামলার অন্যতম আসামি ও জেলাব্যাপী অনলাইন ক্যাসিনো কারবার ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত মুকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী। গ্রেপ্তার মুকুল ইসলাম কোমরপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে।

ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি কার্যকর হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর আওতায় মেহেরপুর জেলায় দায়ের হওয়া প্রথম মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন মুকুল ইসলাম। ওই মামলায় মোট ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘সাইবার আইনে দায়ের হওয়া মামলার পলাতক আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় জব্দ করা মোবাইল ফোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া বা অবৈধ লেনদেনের কোনো ট্রেস পাওয়া গেলে নতুন মামলা দায়ের করা হবে। অন্যথায় বিদ্যমান মামলায়ই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুজিবনগর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর ২০(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

নথিতে উল্লেখ করা হয়, চক্রটি মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ আশপাশের এলাকায় অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-লেনদেনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেনের পাশাপাশি ফেসবুক ও টেলিগ্রাম গ্রুপে দ্রুত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলায় অনলাইন জুয়া ছড়িয়ে পড়ার পেছনে আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে মুকুল ইসলাম অন্যতম। শুধু মেহেরপুর নয়, দেশে অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমের শুরুর দিকেই তিনি এজেন্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

By তালাশ বাংলা ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *