বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রবীণ দুই নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খান এখনো সরকারের বাইরে রয়েছেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা দুজনই সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে তাদের সম্ভাব্য দায়িত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় ও নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানায়, মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় থাকা বিএনপি ও শরিক দলের অধিকাংশ নেতাই মঙ্গলবার ঘোষিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। পরবর্তীতে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকেও মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রবীণ দুই নেতা খন্দকার মোশাররফ ও মঈন খান এখনো কোনো দায়িত্ব পাননি।
এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে—ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতি এবং ড. আবদুল মঈন খানকে জাতীয় সংসদের স্পিকার করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু নিশ্চিত করেননি।
দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হিসেবে দুই নেতাকে আগাম শুভেচ্ছা জানাতে তাদের বাসায় গেছেন বলে জানা গেছে। টেলিফোনেও অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে দুই নেতার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলেই কর্মী-সমর্থকদের জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খান এখনো কোনো দায়িত্ব না পাওয়ায় রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ ও ২ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বয়স ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তাকে রাষ্ট্রপতির সম্মানজনক পদে আনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের ধারণা। অন্যদিকে ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে চারবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদ পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে স্পিকার করা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। তবে গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচনের পর দায়িত্ব ছাড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের কোনো ঘোষণা আসেনি।
সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং তিনি সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন সংসদ-সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করে।
অন্যদিকে, সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। বিদায়ী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তার সভাপতিত্বেই নতুন স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সব মিলিয়ে, বিএনপির প্রবীণ দুই নেতাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও প্রত্যাশা তুঙ্গে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত জল্পনা-কল্পনাই ভর করছে রাজনীতির অন্দরমহলে।
