পেশাজীবনের শুরুটা ছিল আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যুক্তিতর্কে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই করতে করতেই নির্যাতিত মানুষের আস্থা হয়ে ওঠেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। সেই পথ ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং অবশেষে রাষ্ট্রের আইন ও বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারকের দায়িত্ব—আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠান।
একজন আইনজীবীর আইনমন্ত্রী হয়ে ওঠার এই যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মূল্যায়নের প্রতীক।
আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বহু মামলায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন তিনি। সংবিধান, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় আইনের জটিল ব্যাখ্যায় দক্ষতার জন্য সহকর্মীদের মধ্যেও আলাদা মর্যাদা অর্জন করেন। প্রান্তিক মানুষের পক্ষে লড়াই করতে করতেই তার রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে ওঠে।
বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার সূচনা হয় গণমানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। জনগণের প্রত্যাশা ও আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তাকে উপলব্ধি করায়—আইন সংস্কার ছাড়া ন্যায়বিচারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিয়ার রহমান পান ৫৫ হাজার ৫৭৮ ভোট।
এর আগে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মামলা জট কমানো, আইনের শাসন শক্তিশালী করা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় তার প্রস্তাবগুলো ব্যাপক গুরুত্ব পায়। সেই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে নবগঠিত মন্ত্রিসভায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন,
‘আইন পেশা থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তারা আইনের প্রয়োগগত সমস্যাগুলো প্রত্যক্ষভাবে জানেন। ফলে নীতিনির্ধারণে বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়। আমি আশাবাদী এ প্রক্রিয়ায় শতভাগ সফল হবেন আসাদুজ্জামান।’
সদ্য দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন,
‘দেশে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে আমার প্রধান কাজ। আমার আজীবনের স্বপ্ন এ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি শপথ গ্রহণ করেছি। এটাই আমার ধ্যান-জ্ঞান হয়ে থাকবে।’
আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার নির্বাচনী এলাকা শৈলকুপাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করছেন তার অনুসারীরা।
আদালতের কাঠগড়া থেকে শুরু হওয়া এই পথচলা এখন দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার নেতৃত্বে। প্রত্যাশা—তার অভিজ্ঞতা ও অঙ্গীকারে শক্তিশালী হবে আইনের শাসন।
