এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, এবারের নির্বাচনে ভোট চুরি নয়, বরং ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটের পর বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটছে এবং এসব ঘটনার হিসাব নেওয়া হবে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য বিরোধী দল হিসেবে রাজপথে সক্রিয় থাকবে এবং হাদি হত্যার বিচারের দাবি জানাবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রমাণ করেছি এনসিপি নির্বাচনবিরোধী দল নয়; বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।” ভোটে অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি হামলার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) রিপোর্ট অনুযায়ী নির্বাচনকে ‘ম্যানিপুলেট’ করা হয়েছে এবং অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনাবেচা হয়েছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে। তার অভিযোগ, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে নির্বাচনকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এ অভিযোগের সুরাহার দাবি জানান।
খেলাফত মজলিসের সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ফ্যাসিবাদী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে টিকে থাকতে পারবে না।”
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত এমপি সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুরনো সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার জন্য জুলাই আসেনি।”
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক অভিযোগ করেন, ব্যালটের অধিকারের সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে। তিনি বলেন, দিনে সুষ্ঠু নির্বাচনের চিত্র দেখানো হলেও সন্ধ্যায় ফলাফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বাড়িঘরে আগুন দিয়ে আবার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। “রক্তের বিনিময়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা হয়েছে, আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। যে পথেই ফ্যাসিবাদ আসতে চাইবে, সেই পথেই তা প্রতিহত করা হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে জনগণ আবার রাজপথে নামবে।”
