ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের ফল বাতিল ও পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি জোট ও গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর সমর্থকরা ভোটের আগে ও ভোটের দিন ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবৈধ অর্থ বিতরণ এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, সুবিল ও মোহনপুর ইউনিয়নে অবৈধ অর্থ বিতরণের সময় স্থানীয় জনতার হাতে কয়েকজন আটক হন এবং এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনুসারীরা বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াতের ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়। গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পদ্মকোট গ্রামে অস্ত্রসহ সোহেল রানা, আলমগীরসহ আটজনকে আটকের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার পরও তিনি নির্বাচন চালিয়ে যান বলে জানান।
জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, ভোটের দিন তার এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিছু প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে আগেই বিপুলসংখ্যক ব্যালটে সিল মেরে রাখা হয় এবং ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে সেগুলো ব্যালট বাক্সে ঢোকানো হয়।
তিনি বলেন, এসব অনিয়মের প্রতিবাদে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তার নিজ কেন্দ্রে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নিজ কেন্দ্র গোপালনগরে তার কোনো ভোট দেখানো হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন, যা ‘হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য’ বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়া, অনেক কেন্দ্রে তার সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করা হয়েছে এবং নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কয়েকজন সাংবাদিককে নির্দিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করতে চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন।
জসিম উদ্দিন বলেন, অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক, অবৈধ অর্থ বিতরণের ভিডিও ভাইরাল, এজেন্ট বহিষ্কার ও ব্যালট কারচুপিসহ নানা অভিযোগ নির্বাচনের দিন প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দেশবাসী ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই প্রহসনের নির্বাচন, সূক্ষ্ম ভোট ডাকাতির নির্বাচন ও সন্ত্রাস-কালোটাকায় প্রভাবিত নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভয়ভীতিহীন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব অধিকার পরিষদের ১ নম্বর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল হোসেন বেগ, দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য আবু তাহের মজুমদার, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোল্লাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
