ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের ১৭ ইউনিয়নের গ্রাম, পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান ও হাট-বাজারে নির্বাচনী আলোচনা জমে উঠেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হওয়ার পর প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে মাঠে নেমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও অফিস উদ্বোধনের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ছুটছেন প্রার্থীরা। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
কুমিল্লা-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাবেক সদস্য সচিব ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন(ধানের শীষ)’র বিপরীতে ভোটযুদ্ধে থাকছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. মোবারক হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)’র ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া(ঈগল)কে মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-৫ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এই আসনে ইউনিয়ন ১৭টি,ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা স্থায়ী ১৮২,ভোটকক্ষের সংখ্যা স্থায়ী ৯০২,অস্থায়ী ৩৮,ভোটারের সংখ্যা পুরুষ ২৩৫৮৫৫,মহিলা ২২৭৯৮৭,পোস্টাল ভোটার সংখ্যা পুরুষ ১১৩০০,মহিলা ১০৩০ জন।প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী( কাস্তে প্রতীক) বাংলাদেশ মুসলিমলীগ পার্টির আবুল কালাম ইদ্রিস( হারিকেন প্রতীক), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ পার্টির তানজিল আহমেদ( আপেল প্রতীক), ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি) মোঃ আবুল বাসার( আম প্রতীক),জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোঃ এমরানুল হক( লাঙ্গল প্রতীক),ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মনোনীত এমপি প্রার্থী মোঃ রাশেদুল ইসলাম( হাতপাখা প্রতীক),জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি এর মনোনীত এমপি প্রার্থী শিরিন আক্তার (তারা প্রতীক)সহ তাদের নেতাকর্মীদের ভোটের মাঠে তেমন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু প্রার্থী ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। প্রতীক বরাদ্দের পর মিছিল ও নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রচারণা জোরদার হয়।
নির্বাচনীয় এলাকার শরীফ সুমন ও ফয়েজসহ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মূলত তিনজন প্রার্থীকে মাঠে দেখেছেন। অন্য প্রার্থীদের সম্পর্কে অনেকেই তেমন জানেন না। তবে ভোট কাকে দেবেন, সে বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি।সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ আসনে যোগ্য ও শিক্ষিত প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন বলে তারা মন্তব্য করেন।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী মো. রাশেদুল হকের ফেস্টুন দেখা গেলেও ভোটাররা তাকে সরাসরি মাঠে দেখেননি বলে জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান জানিয়েছেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি ও মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্ব শেষে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্তভাবে ৮০ জন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা জেলা দেশের একটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী এলাকা। ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে কুমিল্লা-৫ আসন ঐতিহাসিকভাবেই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিলো। স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে ৬ বার, বিএনপি ২ বার।
এই আসনে সাবেক আইনমন্ত্রী মরহুম আব্দুল মতিন খসরু আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাঁচবার (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮) নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন অধ্যাপক মো. ইউনুস।
