জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,“কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে। যেহেতু ঘোষণা দিয়েছি, এটি আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। অন্য কেউ সরকার গঠন করলেও এই দাবি বাস্তবায়ন করাতে আমরা বাধ্য করব।”
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,“দেশে একসময় চারটি বিভাগ ছিল, এখন আটটি হয়েছে। ভবিষ্যতে দশটা বা বারোটা বিভাগ হলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হতেই হবে।”
তিনি কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবির প্রসঙ্গ টেনে বলেন,“এখানে একটি ইপিজেড রয়েছে। ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে বিমানবন্দরটিও সচল রাখা সম্ভব। কুমিল্লার সব দাবি যুক্তিসঙ্গত। আমরা কোনো এলাকাকে অযৌক্তিক কারণে বঞ্চিত করব না।”
প্রতিশোধের রাজনীতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “আগের একটি সরকার দেশ ও জাতির ওপর প্রতিশোধের রাজনীতি করেছে। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করব না। আমরা এটিকে হারাম মনে করি। রাজনীতি হবে নীতির রাজনীতি। কথা দিয়ে কথা রাখব।”
তিনি দাবি করেন,“সবচেয়ে নির্যাতিত দল হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। অন্য কোনো দলের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়নি—নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, অফিসে তালা, নিবন্ধন বাতিল ও দল নিষিদ্ধ করার মতো ঘটনা একমাত্র জামায়াতের ক্ষেত্রেই ঘটেছে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “শহীদদের রক্ত ও যুবসমাজের তাজা রক্তের বিনিময়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। এত নির্যাতনের পরও আমরা কারো ওপর প্রতিশোধ নেব না। অপরাধ করলে আইনই বিচার করবে, আমরা আইন হাতে তুলে নেব না।”
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কোনো দলের আনুকূল্য করবেন না। দেশের মানুষের পক্ষে থাকুন।”
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মিডিয়া জাতির বিবেক। আপনারা অন্যায়ের পক্ষে থাকবেন না, ন্যায়ের পক্ষে থাকবেন।”
শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“জামায়াত সরকার গঠন করলে সরকারি খরচে মেয়েরা মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারবে।”
সমাবেশ শেষে তিনি কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।
এর আগে সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
