চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গহিন পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুরে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় নিহত র্যাবের ডিএডি (উপ-সহকারী পরিচালক) আব্দুল মোতালেবের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টায় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর ভূঁইয়া বাড়ি ঈদগাহ ময়দানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
এ সময় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকশ সদস্য এবং সহস্রাধিক স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন।নিহত আব্দুল মোতালেব কুমিল্লা সদর উপজেলার অলিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক ভূঁইয়ার কনিষ্ঠ সন্তান।
বিজিবি সদস্য হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও গত দুই বছর ধরে তিনি ডেপুটেশনে র্যাবে কর্মরত ছিলেন। গত শনিবার পরিবারের সাথে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার সময় তাঁর ছোট মেয়ে তাঁকে না যাওয়ার জন্য অনুনয় করেছিল। সেই স্মৃতি মনে করে পরিবারের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
মোতালেবের এক ছেলে ও দুই মেয়ে ঢাকায় পড়াশোনা করেন। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে স্ত্রী শামসুন্নাহার বেগম বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন।জানাজা শেষে নিহতের বড় ভাই জাকির হোসেন ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন সামরিক কর্মকর্তারও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের কী হবে? আমার ভাই সমাজের কল্যাণে কাজ করত। যারা তাকে হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।” পরিবারের অন্য সদস্যরাও এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। নিহত মোতালেবের মরদেহ রাতে গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল ছলিমপুরে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের এক বিশেষ অভিযানে গেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের অনুসারীরা র্যাবের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালায়। এতে ডিএডি আব্দুল মোতালেব শহীদ হন এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। বর্তমানে সীতাকুণ্ডের ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জঙ্গল ছলিমপুর, আলীনগর ও লিংক রোড এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই নৃশংস হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
