কুমিল্লায় জেএমবির ৩ সদস্যের কারাদণ্ড, দুজনের ২০ বছর
কুমিল্লায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)–এর তিন সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে দুজনকে ২০ বছর করে এবং এক নারী সদস্যকে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক খাইরুননেছা এ রায় ঘোষণা করেন।
২০ বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু, ওরফে সামাদ, ওরফে রাজীব এবং মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান। মোস্তাফিজুর রহমান নওগাঁর সাপাহার উপজেলার কলমিডাঙ্গা গ্রামের আয়নাল হক ওরফে রুহুল কুদ্দুস মাস্টারের ছেলে। দুরুল হুদা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ২ নম্বর চকপাড়া এলাকার মো. আলী হোসেনের ছেলে।
অপর আসামি খালেদা আক্তার রানীকে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দুরুল হুদার স্ত্রী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জেএমবির প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান তৎকালীন রিমান্ডে থাকাকালে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুর এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিচার চলাকালে বিভিন্ন সময়ে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। পাশাপাশি আসামিদের জবানবন্দি, জব্দ তালিকা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের বিষয় আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং উল্লেখিত সাজা দেন।
রায় ঘোষণার পর আদালতের সাজা পরোয়ানামূলে দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পুলিশ পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
