বুড়িচং

বুড়িচংয়ে হাসপাতাল থেকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার,স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে শারমিন আক্তার মুন্নি (২২) নামে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার পর ঘরবাড়ি তালা দিয়ে স্বামীসহ শশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। নিহত শারমিন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানী গ্রামের মো. মোস্তফা কামালের মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে জগতপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে বাহরাইনপ্রবাসী মো. জহিরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

নিহতের বাবা মো. মোস্তফা কামালের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও টাকা-পয়সা নিয়ে তার মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে শারমিনের স্বামী জহির ফোন করে তার শ্বশুরকে বলেন, ‘আপনার মেয়ের অবস্থা বেশি ভালো না, আমরা তাকে বুড়িচং হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’ খবর পেয়ে মোস্তফা কামাল হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তবে সেখানে তার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি।

বাদীর অভিযোগ, শারমিনকে ঘরের তীরের সঙ্গে শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে শারমিনের স্বামী মো. জহির (৩৫), শ্বশুর মো. মোসলেম উদ্দিন (৫৫), শাশুড়ি রেহেনা বেগম (৫২) ও দেবর মো. কবির হোসেনের (২৫) বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বুড়িচং থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। স্বামী জহির চলতি মাসে বাহরাইনে চলে যাওয়ার কথা রয়েছে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।