সারাবিশ্ব

ভারতে সরকারবিরোধী আন্দোলন ;কর্মসূচিতে অনড় থাকে বিরোধী জোট ও ককরোচ জনতা পার্টি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা করেছেন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী। ভোট চুরি ঠেকানো, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে সোমবার এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর প্রক্রিয়ার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন বিরোধী নেতারা।এদিকে আন্দোলন চলমান রেখেছে ককরোচ জনতা পার্টি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিরোধী নেতাদের আবেদনে মোট ১০টি বিষয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। আবেদনে এসআইআর-সংক্রান্ত নথি আদালতে জমা দেওয়া, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রক্রিয়াটির আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

পুলিশ মিছিল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়। পরে বিকল্প একটি রাস্তা দিয়ে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে পৌঁছান। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাহুল গান্ধী সেখানে পৌঁছাতে না পারায় তাঁর পক্ষে আইনজীবী এস প্রসন্ন আগেই আদালতে পিটিশন দাখিল করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে রোববার ‘সুপ্রিম কোর্ট অভিযান’ কর্মসূচি ঘোষণা করে ইন্ডিয়া জোট। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী শীর্ষ নেতাদের ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা ছিল।

তবে রোববার রাতেই প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, বিরোধী নেতাদের সাক্ষাতের জন্য সময় দেওয়া সম্ভব হবে না। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের উত্থাপন করতে চাওয়া বিষয়গুলো ইতিমধ্যে বিচারাধীন এবং সুপ্রিম কোর্টে সেগুলোর শুনানি চলছে। আদালত রাজনীতি করার জায়গা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপরও নিজেদের কর্মসূচিতে অনড় থাকে বিরোধী জোট।

*আবেদনে ১০ দফা দাবি

বিরোধী নেতাদের আবেদনে নির্বাচন কমিশনকে এসআইআর-সংক্রান্ত সব নথি, ফাইল, চুক্তি, বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং এ প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত আপত্তিগুলো আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন, ২০২৩ এবং সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনের ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তা সংবিধানবিরোধী কাজ করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করেছেন বিরোধী নেতারা। এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় উত্থাপিত আপত্তিগুলো যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা এবং নির্বাচনবিধি অনুযায়ী ফর্ম-৬-এর ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে আবেদনে।

এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটির মাধ্যমে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা এবং নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহারসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের আবেদন জানানো হয়েছে।

আবেদনে বুথভিত্তিক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা প্রকাশ, নাম বাদ দেওয়ার কারণ উল্লেখ এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বয়স ও লিঙ্গের তথ্য প্রকাশের দাবিও রয়েছে। যথাযথ আইনি নোটিশ ও শুনানির সুযোগ ছাড়া কোনো ভোটারের নাম বাদ না দেওয়া এবং পাঞ্জাবসহ ভোটমুখী রাজ্যগুলোতে যোগ্য নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিরোধী নেতারা আরও বলেছেন, এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে রাখার আবেদনও করা হয়েছে।

*প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি

ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও উঠে এসেছে। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইছেন।

তবে বিরোধীদের এসব দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।