সারাদেশ

নদী থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার,এখনো নিখোঁজ বাবা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির দুই দিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের প্রধান হেলাল উদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা মরদেহ তিনটি উদ্ধার করেন। পরে স্বজনেরা এসে মরদেহগুলো নিখোঁজদের বলে শনাক্ত করেন।

উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্দী গ্রামের অটোরিকশাচালক হেলাল উদ্দিনের মেয়ে সামিনা (১৭), ছেলে সজিব (২৪) ও সামিন (৫)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার শ্রীমদ্দী গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের হারিয়া গ্রামে এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে রওনা হন পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। ট্রলারে মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। দুপুর ২টার দিকে ট্রলারটি সোনাময়ী এলাকায় মেঘনা নদীর মাঝপথে পৌঁছালে হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস ও তীব্র ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পর কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে। একই দিন রাশেদা বেগম (৪০) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের কাইলকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পানির নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি ডুবুরি দলও বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালায়।

সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী বলেন, খবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ডুবুরি দলও অভিযান চালিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে নদীতে এখনো ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের অভিযান চলছে।’